ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) ছাত্রদলের নবগঠিত ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীর নাম অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে ব্যাখ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে কমিটির নেতারা। এ সময় তারা অপপ্রচারের এই ঘটনাটিকে গুপ্ত রাজনীতির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কলেজ ক্যান্টিনে মমেক ছাত্রদল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার প্রসঙ্গে বিস্তারিত তুলে ধরে এই ব্যাখ্য দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মমেক ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম। এ সময় সঙ্গে ছিলেন মমেক শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কলেজটিতে ১ম বর্ষ থেকে ৫বর্ষ পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার থেকে ১১শত শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ বা ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীই নারী। অবশিষ্ট ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ ছেলে শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে আবাসন রয়েছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ ভাগ। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বেশির ভাগকে বাধ্যকতামূলকভাবে বিগত সময় ছাত্রলীগের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এর মধ্যে যাদের নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে তারা সবাই ৫৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। এরা সবাই ২০২৩ সালের প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষার্থী হিসাবে মোস্ট জুনিয়র ব্যাচের।
সিয়াম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এরা ছাত্রলীগের কোন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না কিন্তু, তাদের পদ দিয়ে ছাত্রলীগের সীল মেরে দেওয়া হয়েছে। মোট কথা কোন শিক্ষার্থী হলে থাকসে কিন্তু ছাত্রলীগের পদ দিয়ে সীল মারে নাই, এমন হয় নাই। ফলে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গুপ্ত রাজনীতির ডাকে সাড়া না দেওয়ায় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ন্যারেটিভ ছড়িয়ে ছাত্রদলকে মিডিয়া ট্রায়ালের মুখোমুখি করা হয়েছে।
সিয়াম সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ২০২৩ সালে মমেক ছাত্রলীগের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়। এতে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে ট্যাগ দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ওই কমিটিতে রাখা হয়েছে। কিন্তু এদের মধ্যে অনেকেই ছাত্রলীগের কোন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না বরং তারা বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদলের সঙ্গে সক্রিয় ছিল। তাদেরই ছাত্রদলের কমিটিতে যাছাই-বাছাই করে রাখা হয়েছে।
ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, বর্তমানেও মমেক ছাত্র শিবির ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি করছে কিন্তু, তারা এখন পর্যন্ত তাদের কমিটি প্রকাশ করছে না। তবে, সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে আমরা জানতে পেরেছি যে, শিবিরের এক সভাপতি তার দায়িত্ব থেকে বিদায় নিয়েছেন। অথচ তার সেক্রেটারি কে ছিল, তা এখনো অজানা। কিন্তু বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব শিবিরের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদে দায়িত্বশীল রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মমেক ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াত রুতাপ প্রমুখ।
আরটিভি/এমএম




